সন্ধ্যার পরেই আকাশে চাঁদ উঠল। আজ পূর্ণিমার আগের দিন। পরিষ্কার আকাশে দেখা যাচ্ছে থালার মতো চাঁদ। লাল বসে আছে রুহুল ফকিরের সঙ্গে।
‘তুই কি জানস, এই চান্দের রহস্য কী?’ নীচু গলায় করা প্রশ্নটা লালের কাছে অপরিচিত।
লাল মুখ তুলে চাঁদের দিকে তাকায়, মেঘের রাজ্যে লুকোচুরি খেতে থাকা প্রায় গোল জিনিসটাকে তার একটুও রহস্যময় বলে মনে হয় না, বরং যেন খেলার কোনো সামগ্রী। চাঁদটা তাদের নিয়ে খেলছে, আর তারা খেলছে চাঁদ নিয়ে। জোছনা সংযোগে উভয়ের মধ্যে রাত্রির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
রুহুল ফকিরের গলা রহস্যময় হয়ে ওঠে বাঁশবাগানের ওপরের চাঁদের মতো, ‘চাঁদ আমাগো সবাইরে টানে। সেই টানে কেমন জোয়ার আসে নদীতে, নদীর ঘাটের সিঁড়িগুলা ডুইবা যায়।’
একটু নীরব থেকে গলায় আরেকটু রহস্য ঘনাতে দেন বৃদ্ধ, ‘আমাগো শরীরের ভিতরে এই আলো টান দেয়। আমাগো জীবনের রস বাইর কইরা নিয়া আসতে চায়। মানুষেরে ভাসাইয়া দেয় ভরা নদীতে। মানুষ কোনো কূল পায় না। বুঝলি লাল, এই টান যার উপরে কাজ করে না,
সেই আসল ফকির।’ বালক আসল ফকির হবার উপায়ের দিকে আগ্রহী হয় না, সে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে চাঁদের দিকে, চাঁদটা চলছে যেন অনন্তের পথে, কিন্তু এক বিন্দুও নড়ছে না।






There are no reviews yet.